প্রতীক বরাদ্দের আগেই পোস্টারে সয়লাব পুরান ঢাকা


প্রকাশিত:
৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:৩১

আপডেট:
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৪:০৫

ফাইল ছবি

তফসিল অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে ভোটের বাকি আরও প্রায় এক মাস। আজ মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল চলছে। ১৮ ডিসেম্বর মিলবে প্রতীক। নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু করা যাবে নির্বাচনী প্রচারণা। কিন্তু ঢাকা-৭ আসনের চিত্র ভিন্ন। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিমের ব্যানার, পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। তবে এসব যেন দেখেও কেউ দেখছে না।

এ নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ঢাকা-৭ আসনে একাধিকবারের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, কথা বলতে পারছেন না। এজন্য নৌকা ঘর ছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মনোনয়নপত্র কিনেছেন বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম। সোমবার বাছাইয়ে টিকেছে সেলিমপুত্রের মনোনয়ন। কিন্তু এর আগে থেকে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, বাবা হাজী মো. সেলিম ও নিজের ছবি দিয়ে নির্বাচনী পোস্টার লাগিয়েছেন সোলায়মান সেলিম।

এসব ব্যানার ফেস্টুন নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মোড়ে, ভবনের দেয়ালে, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় টানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার নির্বাচনের প্রাক্কালে যেভাবে রশিতে বেঁধে পোস্টার টানানো হয় সেভাবে করা হয়েছে।

দেখা গেছে, ব্যানার ও ফেস্টুনে নিজের বড় ছবি দিয়ে সোলায়মান সেলিম লিখেছেন, সন্ত্রাসের বিপক্ষে, শান্তির স্বপক্ষে ঢাকা-৭ আসনে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিন।

অবশ্য শুধু সোলায়মান সেলিম নন, ঢাকার সাবেক মেয়র ও ঢাকা-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী সাঈদ খোকনের ব্যানার-ফেস্টুনও দেখা গেছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। তাতেও নৌকায় ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পুরান ঢাকার জজকোর্ট, ভিক্টোরিয়া পার্ক, রায়সাহেব বাজার, তাতীবাজার, বংশাল, লালবাগসহ আশপাশের এলাকায় নির্বাচনী পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

মসজিদে মসজিদে প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী সাঈদ খোকন
যদিও গত শনিবার প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে ইসি থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। যেখানে আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির পক্ষ থেকে শিথিলতা নিয়ে গণমাধ্যমে, টকশোতে কথা বলার সমালোচনা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন গত শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের আগে কোনো ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১২ ধারায় বলা আছে, ভোটগ্রহণের ৩ সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না।

এতে বলা হয়, প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের সময় চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের আগে কোনো ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। ফলে এর আগে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণারও সুযোগ নেই।

অবশ্য এরমধ্যে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ অনেক প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শোকজ করা হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। তবে খোদ রাজধানীতে পোস্টার টানিয়ে সুস্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলেও তা যেন কেউ দেখছে না।

এবিষয়ে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
বিএলডি ফাউন্ডেশনের পক্ষে সম্পাদক : মাসুদ হাসান লিটন


Top